চা শ্রমিকদের কান্না
এই আন্দোলন টা কতটুকু যৌক্তিক চা শ্রমিকদের জন্য সেটা আমার পোস্টের শেষেই বুঝা যাবে। আচ্ছা একজন যেকোনো শ্রমিকের বেতন যদি হয় ১২০ টাকা তাও এই বর্তমাম সময়ে সেটা যেকোনো মানুষের শোনার সাথে সাথে তার চোখ কপালে ওঠবে।
কেনই বা ওঠবে না একবার ভাবুন তো। ধরেন, আপনার বাসায় সকাল বেলা রান্না হয়নি। আপনি বাইরের ছোট্ট একটা হোটেলে সকালের নাস্তা করতে গেলেন। দুইটা পরোটা নিলেন আর একটা ডিম নিলেন সাথে একটা সবজি। হিসেব করেন তো কত টাকা আসে?
দুই টা পরোটা ২০ টাকা আর ডিম ২৫ টাকা সাথে সবজি ডাল ২০ টাকা। আপনি শুধু নরমাল একটা নাস্তা করলেন সেখানেই আপনার চলে গেলো ৬৫ টাকা? তবে সেখানে যদি আপনি আরেকটু ভারি খাবার খেতেন তাহলে আপনার সেখানে চলে যেত পুরো ১২০ টাকাই।
আর বড়লোকদের কথা কি আর বলবো। তাদের সকাল বেলার নাস্তা এমনো হয় ৪০০-৫০০ টাকা বা এর অনেক বেশিও করে থাকে। আর তাদের দুপুরের খাবার বা রাতের ডিনারের কথা বাদেই দিলাম।
এবার আসি আমি যে কিছুক্ষণ আগেই ৬৫ টাকার হিসাব করেছি সেটা মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য তবে তারা হয়তো আরো বেশি টাকার নাস্তাও করে থাকেন। আর সেই ৬৫ টাকার নাস্তাটাও আমার পেট তেমন ভরবে না।
এবার ভাবেন তো একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরী যদি হয় ১২০ টাকা হয় তাহলে তার তার সকালের নাস্তা টা কি হবে? অবশ্যই এই ৬৫ টাকার ধারে কাছেও না। কারন তাদের একবেলার নাস্তার টাকাই যদি ৬৫ টাকা হয়ে যায় তাহলে তাদর তিন বেলার খাবারের কি হবে৷
তাদের খাবারে কিছু তথ্য আমি কয়েকটা অনলাইন পোরটাল থেকে সার্চ করে দেখলাম তারা সেই চায়ের কচি পাতার ভর্তা আর ভাত দিয়ে সকালের নাস্তা করে থাকেন। দুপুর রাতের খাবারের অবস্থাও খুবেই নগন্য পরিমান টাকার মধ্যে করে থাকে।
তাহলে আমরা শুধু একজন মানুষের একটা মৌলিক চাহিদার কথা বললাম। আরো বাকি যে মৌলিক চাহিদা গুলো আছে সেগুলোর কথা কে বলবে? বর্তমান দেশের যে জিনিস পত্রের দামের যে অবস্থা তার মধ্যে ১২০ টাকার মজুরী দিয়ে কোনো ব্যাক্তিই সে একবেলা চলতে পারবে না।
বর্তমান বাজারের প্রত্যেকটা জিনিসের দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুন হারে বেড়ে যাচ্ছে। বাসা ভাড়া, যাতায়াত ভাড়া, গ্যাস ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, সয়াবিন তেল থেকে ধরে একজন মানুষের জৈবিক চাহিদার প্রত্যেকটা জিনিসের দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুন হারে বেড়ে যাচ্ছে।
তাহলে একজন চা শ্রমিকের বেতন যদি হয় ১২০ টাকা তাহলে বলেন তো সে তিন বেলা খেয়ে তার পরিবার নিয়ে কিভাবে জীবন নির্বাহ করবে? চা শ্রমিকদের মুখে শোনলাম বিভিন্ন খবরে যে প্রতিদিন তাদের সর্বনিম্ন ১২কেজি চা পাতা তুলতে হয়। যদি এর থেকে কম তুলে থাকেন কেউ তাহলে নাকি তার বেতন কেটে দেওয়া হয়৷
বর্তমানে সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়াই চা শ্রমিকদের
পিট দেয়ালে ঠেকে গেছে৷ তাই তারা বাধ্য হয়েই এখন আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। যার কয়েক দিন ধরে তারা কর্ম বিরতিতে আছেন। তাদের বর্তমান দাবি ৩০০ টাকা বেতন করতে হবে৷ তবেই তারা কাজে নামবেন।
আমার কাছে তাদের দাবি টা যৌক্তিক মনে হয়েছে। কারন ১২০ টাকা মুজুরী এখনকার যুগে এসে সেটা সত্যিই অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতনেই বলা যায়। তাই আমার মনে হয় এই নিম্ন আয়ের মানুষ গুলোর দাবি মেনে নেওয়া খুবেই প্রয়োজন।
| 500 HP | 1000 HP | 2000 HP | 5000 HP | 10000 HP | 15000 HP | 20000 HP |
