অনুশোচনা
আপাতদৃষ্টিতে ভ্যানিলা এবং চকোলেট দুটোই আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমার কাছে প্রয়োজন। আমি একটা সময় দুটোকেই ভীষণ পছন্দ করতাম। কিন্তু আমার এখন কোনোটিই পছন্দ করতে ইচ্ছে করছে না। আমি যদি এখান থেকে একটি পছন্দ করি আর একটি বাদ দেই তাহলে কি হতে পারে? আমার কাছে মনে হচ্ছে যদি আমি একটি রেখে আরেকটি ফেলে দেই তাহলে এতে অর্থ অপচয় করা হবে। অথবা একটা সময় আমার নিজের মধ্যে অনুশোচনার ঘর তৈরি হতে পারে। যদি আমি একটি নেই এবং আরেকটি অন্য কেউ নিতে চায় তাহলে হয়তো গল্পটি ভিন্ন হবে।
দোকানে প্রচন্ড ভিড় জমেছে। আমার পিছনে একটি লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে। কিন্তু সারাদিন সময় নেই যে আমি একটি ডোনাটের জন্য এখানে দাঁড়িয়ে থাকবো। আমার ভাগ্নি জারা বরাবরই বেশ চকলেট খেতে পছন্দ করে। সে এতটাই চকলেট খেতে পছন্দ করে যার কারণে তার সামনের অনেক গুলো দাঁত নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও মিষ্টি জাতীয় কোন কিছু আমার এখন একদমই পছন্দ নয়। কিন্তু কথায় আছে না ক্ষুধার্ত মুহূর্তে সবকিছুই আপনার কাছে স্বাদের মনে হবে। আমি যখন বিক্রেতার মুখের দিকে তাকালাম তখন একটি বিরক্তের ছাপ অনুভব করলাম। আমি বুঝতে পারছিলাম তিনি নিজেও এই ভিড়ের মধ্যে নিজের চোখের মধ্যে বিরক্ত ফুটিয়ে তুলেছেন। আমি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে নিজের ক্ষুধা হারিয়ে ফেলেছি। অবশেষে কোন উপায় না দেখে আমি কাউন্টার থেকে সরে গেলাম।
আমি অপেক্ষা করলাম না মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য। আমার প্রত্যেকটা দিন এমন ছোট ছোট কিছু ঘটনার মধ্য দিয়েই যাচ্ছিল। আমি বরাবরই ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হই এবং পরে আমি যেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলাম সেটার জন্য অনুশোচনা করি। আমি যখন নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করি তখন আমার কাছে মনে হয় জীবনের সেই জিনিসগুলোই সব থেকে সেরা যেগুলোর পছন্দের প্রয়োজন হয় না।
বেশ কিছুদিন ধরেই আমার বন্ধু আমাকে নিয়ে কেনাকাটা করতে যেতে চাইছিল। এটাই যে প্রথম এমনটি নয় তার সাথে কেনাকাটা করার আমার আরো একবার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই মাসের ১৫ তারিখে আমার বন্ধু আমাকে মলে নিয়ে গিয়েছিল। তার আগে আমাকে তার সাথে শপিং করার সময় যথেষ্ট বিরক্ত করেছে। আমি লক্ষ্য করেছি তার যখন কোন কিছু পছন্দ হয় তাও সে আরো দশটি দোকান ঘুরে পুনরায় সেটি কিনতে আসে, যেটা আমাকে বিরক্ত করেছিল। যার কারণ আমি তার সাথে কেনাকাটা করতে ঘৃণা করতাম। কিন্তু আমি তাকে বোঝাতে চাইনি যে আমি একজন খারাপ বন্ধু।
অস্বীকার করার জন্য আমার মনে কোন প্ল্যান ছিল না। সে আমাকে বলল সে যথারীতি আমাকে ফোন করে জানাবে এবং সে ১৫ তারিখ বিকালে আমাকে নিতে আসবে। আমি কোন কিছু বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই সে ফোন কেটে দিয়েছিল। সেই মুহূর্তে আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না আমার কি করা উচিত। অতঃপর আমি তার সাথে দোকান থেকে দোকানে ছুটে গিয়েছিলাম। আমি দেখছিলাম কিভাবে সে একটি জিনিসের বারবার দাম বলছিল। আমি দেখছিলাম আমার কোন জিনিসের রং পছন্দ হয়েছিল আবার কোন জিনিসের ডিজাইন।
কিন্তু আমি একত্রে কোনটাই পছন্দ করতে পারিনি শেষ পর্যন্ত আমি কোন কিছুই আর কিনতে পারিনি। বুঝতে পারছিলাম কোন কিছু পছন্দ করা খুব কঠিন বিষয় ছিল, আর সেই মুহূর্তে অর্থ অপচয় করার কোন মানে ছিল না। প্রায় দুই ঘন্টা এই দোকান থেকে ওই দোকান ঘোরার পর আমি তাকে কিছুই কিনতে দেখিনি। অতঃপর আমরা দুজন ক্লান্ত হয়ে মলের কাছে একটি বেঞ্চিতে বসে পড়লাম। সে নীরবতা পূরণের জন্য এই গল্প থেকে ওই গল্পতে পা রাখছিল। এই দিনটা তে আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমি অনেক ধৈর্যশীল। আমি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তার গল্প শুনেছি। একদমই ভাবতে যাবেন না সে কোন কাজের কথা বলছিল।
আমাদের কথা বলা যখন শেষ হয় অতঃপর সে আবার বিভিন্ন দোকানে নিজের পছন্দের জিনিসগুলো কেনাকাটার জন্য প্রস্তুত হয়। আমি লক্ষ্য করছিলাম সে কিভাবে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে একই জিনিসের জন্য দৌড়াচ্ছিল। আমি দেখছিলাম সে কিভাবে একটি জিনিসের দাম দর করছিল। দোকানদার যখন একটি জিনিসের দাম বলছিল সে তার তিনগুণ কমিয়ে তার দাম বলছিল। বেশিরভাগ সময়ই আমি তার দাম শুনে লজ্জায় পড়ে যাচ্ছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম দোকানদার কি ভাবতে যাচ্ছে। কিন্তু আপনি শুনলে অবাক হবেন তার সেই দামে দোকানদার তার জিনিসগুলো দিয়ে দিতে রাজি হচ্ছিল।
আমার অনুশোচনার ঘর তৈরি হয়েছিল নিজের মধ্যে। কারণ আমি কখনোই কোন জিনিসের খুব বেশি দাম করতে পছন্দ করি না। আমার মনে হচ্ছিল আমি যতবারই কেনাকাটা করেছি আমি ততবারই ঠকেছি। আপনি দেখলে হয়তো অবাক হতেন সে কিভাবে একই জিনিসের বিভিন্ন রং খুঁজতে ব্যস্ত ছিলো। যখন কোন কিছুর রং পছন্দ হচ্ছিল, সে তার মধ্যে আবার অন্য ডিজাইন খুঁজতে ছিল। সে কোন কিছুই অবশেষে পছন্দ করছিল না। আমরা পুনরায় সেই দোকানটিতে ফিরে গিয়েছিলাম প্রায় তিন ঘণ্টা আগে যেই দোকানটিতে সে একটি ড্রেস পছন্দ করেছিল। সে সেখানে গিয়ে সেই দামেই ড্রেসটি কিনে নিয়েছিল। আমি তাকে শুধু একটি প্রশ্ন করেছিলাম, তোমার কি এভাবে ঘুরে কেনাকাটা করা বেশ পছন্দ? সে শুধু হেসে মাথা নাড়িয়ে ছিল।
বাসায় ফিরে আসার পর আমার অনুশোচনা হয়েছিল, কেন আমি তাকে মলে যাওয়ার জন্য না করতে পারিনি।

Hi @shahinaubl, your post has been upvoted by @bdcommunity courtesy of @rem-steem!
Support us by voting as a Hive Witness and/or by delegating HIVE POWER.
JOIN US ON
প্যারাডক্সিকাল একটা বিষয়, যেটা পারতপক্ষে খুব বেমানান মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে দোকানদারের বলা দামের চেয়ে তিনভাগের একভাগ বলাটা ক্রেতা হিসেবে খুব উঁচুমানের পরিচয় দেয়। এই যে আপনি বলছিলেন,কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরে মনে হয়, আরে! বোধহয় ঠকে গেলাম, হা হা!
এটা আমার ক্ষেত্রেও হয়, শুধু কেবল আমার নয়, সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রেতাটিরও এরকম অনুভব হওয়া স্বাভাবিক।
তবে ১/৩ নিয়ম অনুসরন করলে ঠকে যাবার সম্ভাবনা কম।
গেল সপ্তাহে কিছু ক্রোকারিজ কেনার পর, কাট-কনসেশন নিয়েও, দোকানী যখন জিনিসগুলো প্যাকিং করছিলো, তখন সরাসরি ওনাকে বলেই বসলাম, ভাইসাব, এই দামে কিনে কি ঠকে গেলাম?, 😀
দোকানী কিছুটা বরিশাল সুরে বললো,
ভাই, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে কেউ জেতে?
তারপর, লোকটাকে বাহবা দিয়ে চলে আসলাম।
হা হা
আজকাল কেনাকাটা করাও বেশ কঠিন হয়ে গেছে। কিন্তু আমি মনে করি আমার মায়ের সাথে যখন আমি যাই কোনক্রমেই তখন ঠকার কোন উপায় থাকে না।
ভাই এটা বেশ ভালো ছিল। যাই করি তাদের সাথে ঠকতেই হবে 😁