শুভ'দের ঈদ

in BDCommunity2 months ago (edited)

হঠাৎ একদিন তিন তালা ছাদ থেকে পরে গেলেন রহিম মিয়া। রহিম মিয়া রাজমিস্ত্রি কাজ করতেন। পরে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ। জান যায় যায় অবস্থা হলেও এখন বেঁচে আছেন। এখন এই বেঁচে থাকাটায় যেন তার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রহিম মিয়া তাই বার বার বিধাতাকে গালাগালি করে থাকেন। সে এখন পঙ্গু হয়ে মানবতর জীবন যাপন করছে। তার স্ত্রীও অসুস্থ। কোথাও গিয়ে কাজ করতে পারে না। ছোট্ট ছেলে শুভ কেবল তো ছয় ক্লাস থেকে সাত ক্লাসে উঠেছে। রাজ্যের ভার এখন তার উপর। বাবা হয়ে এই ছোট্ট ছেলের উপর এতোটা ভার কিভাবে দিতে পারে। সংসারের খরচ তার উপর মড়ার উপর খাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে পঙ্গু বাপ ও অসুস্থ মা।

সব সখ আহ্লাদ ছুড়ে ফেলে শুভকেই সংসারের হাল ধরতে হচ্ছে। এখন তো শুভ'র মাঠে চোষে বেরানোর সময়। দুরন্তপনা সময়। সংসারের খরচ বাবা মা এর চিকিৎসার খরচ সব কিছু ছোট্ট শুভ কি করে করবে।

শুভও ঠিকাদারের আন্ডারে কাজ শুরু করে। যা উপার্জন করে তা দিয়ে চলে না। তারপরেও খায়ে না খায়ে দিন পার করে। বাবা মা এর ও চিকিৎসা ঠিক ভাবে চলছে না। রহিম মিয়া তার কংকাল সার দেহ নিয়ে বসে সুয়েই পার করছে। তার চোখের কনায় সব সময় দু ফোটা জল গরিয়ে পরে। আর নিজেকে সব সময় ধিক্কার দিয়ে থাকে।

প্রতিদিন সন্ধ্যা হওয়ার আগে থেকেই ঘরের দুয়ারে বসে শুভ আসার অপেক্ষার প্রহর গুনে রহিম মিয়া। সব সময় দুঃশ্চিন্তায় থাকে শুভ কে নিয়ে।

কত দিন হল রহিম মিয়া ভালোমন্দ খায় নিই। তার খুব গরুর মাংস খেতে ইচ্ছা করছে। শুভ বাসায় এলে তার এই ইচ্ছার কথা ইতোতস্ত হয়ে প্রকাশ করে। এদিকে শুভ কে ঠিকাদার আজ টাকা কম দেওয়ায় শুভর মাথা গরম। মেজাজ খিটখিটে হয়ে আছে। রহিম মিয়ার এই ইচ্ছা শুনে রহিম মিয়া যে তার বাবা সেটা সে ভূলে যায়। যা ইচ্ছা তা বোকাবোকি করতে শুরু করে। রহিম মিয়া মাথা নিচু করে নিজেকে বড় অপরাধী মনে করতে থাকে। আর চোখ তুলে দেখার সাহস পায় না।

পাঁচ দশ মিনিট পরেই শুভ বাবার প্রতি এমন আচরণে নিজের উপরেই কন্ট্রল হাড়িয়ে ফেলায় সে যে ঠিক করে নিই তা বুঝতে পেরেছে।

শুভ রুমে গিয়ে দেখে রহিম মিয়া চকিতে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে আছে। সে যায়ে তার পাশে বসতেই। রহিম মিয়া বলতে থাকে শুভর মা তুমি কিছু মনে কর না শুভোর এমন আচরণে। ছোট্ট ছেলে এতো কষ্ট সইতে না পেরেই এমন আচরণ করেছে। আমি।তার প্রতি অন্যায় করে চলেছি। কিন্তু আমি কি করবো আমি যদি পঙ্গু না হতাম।

শুভ এইসব শুনার মত প্রস্তুতি ছিল না। বাবাকে জোড়ায় ধরে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেলে শুভ। তার এই আচারনের জন্য মাফ চায় শুভ। রহিম মিয়াও নিজেকে কান্নাকে আটকিয়ে রাখতে পারে নিই। এদিক রহিমের বোবা মা তাদের কান্না কাটি শুনে দৌড়ে এসে দেখে সেও অঝোরে চোখের জলে ভিজিয়ে ফেলেছে তার ছিড়া ফাটা ব্লাউজ টা। সামনে ঈদে ভালমন্দ খাওয়াবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় শুভ।

কাল ঈদ আজ চান রাত। শুভ বসে আছে টং দোকানে। একে একে সবাই আসছে আর যাচ্ছে শুভ বসেই আছে। সেই সন্ধ্যা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত । যত সময় গড়িয়ে যাচ্ছে ততোই যেন তার মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমের রাস্তাটার দিকে বার বার তাকিয়ে কার যেন অপেক্ষা করছে।

চা দোকানের শুকুর চাচা বলেই ফেললো শুভ বাবা তোর কি কোন সমস্যা। শটকার্ট জবাব না চাচা। শুকুর চাচা তার এই ছোটখাটো জবাবে বুঝতে পেরেছে কোন সমস্যা আছে । কারণ শুভ কথা বললে আর ছাড়তেই চায় না। অনেকক্ষণ অপেক্ষা কারার পর আর সইতে না পেরে শুকুর চাচাকে বলেই ফেললো আমি ঠিকাদারের অপেক্ষায় আছি। আসবে বলে আমাকে এইখানে থাকতে কইছিল চাচা। কিন্তু এখন তো অনেক রাত হইলো এখনো আসলো না।

শুকুর চাচা কোমরে গুজিয়ে রাখা মোবাইল বার করে ঠিকাদারের নাম্বার দিয়ে ফোন লাগিয়ে শুভ কে ধরিয়ে দেয়। শুভ হেল্লো আমি তো সেই সন্ধ্যা হতে অপেক্ষায় আছি আপনার। আপনি কখন আসবেন? ওপাশ থেকে কি বলেছে জানি না তবে শুভ' র চোখ জলে টলমল করছে। এই বুঝি সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ নেমে আসবে।

maxresdefault.jpg
Source

Sort:  

Congratulations @steemitwork! You have completed the following achievement on the Hive blockchain and have been rewarded with new badge(s) :

You received more than 4500 upvotes. Your next target is to reach 4750 upvotes.

You can view your badges on your board And compare to others on the Ranking
If you no longer want to receive notifications, reply to this comment with the word STOP

To support your work, I also upvoted your post!

Do not miss the last post from @hivebuzz:

Hive Power Up Day - Let's grow together!
The HiveBuzz Shop - New Items and Designs